বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ১১:২৯ অপরাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস-worldkhobor24 মুজিববর্ষ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের উদ্বোধন ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। শৈলেন হোমিও কেয়ারের নতুন স্থানে শুভ উদ্বোধন ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-ওয়ার্ল্ড খরব২৪ সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তার এবং অবশেষে কারাগারে প্রেরণ ১৫ মে – বিশ্ব পরিবার দিবস। ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে লড়াই এখন যেরকম তীব্র হয়ে উঠেছে তা একটি “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে” রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ। ওয়ার্ল্ড খবর২৪-এর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। একটা ঈদ বাড়িতে না করলে কী হয়’-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

নতুন বছর, নতুন ভাবনা।ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী।ওয়ার্ল্ড খবর২৪

Dr lorence Timo Bairagi / ১৩৪ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১

গ্রহণ করেছি ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ।
বিদায় দিয়েছি ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ।
এই নতুন বছরের নতুন কয়েকটি দিন কেটে গেলো।
এভাবে আস্তে আস্তে দিন যাবে, মাস যাবে, বছরও চলে যাবে, ফিরে পাবো আবার নতুন একটি বছর।
কিন্তু এই নতুন বছবের ভাবনা নিয়ে আমরা এক একজন এক একভাবে চিন্তা করছি সামনের দিন গুলো নিয়ে।
বিদায়ী বছরের বিষন্নতা কে ছাপিয়ে মন কে উৎফুল্ল করে তোলে নতুন বছরের আগমনী বার্তা।
ক্যালেন্ডারের শেষ পাতাটি ছিড়ে একসঙ্গে উচ্চারিত হয় Happy New Year2021।
নতুন দিনের সূচনা,নতুন করে পথচলা। নতুন প্রান চাঞ্চল্য, নতুন শপথ সব কিছুই যেন একাকার হয়ে বছরের প্রথম দিনটিতে এসেছিল।
অতীত কে মুড়িয়ে দিয়ে নতুন এক সময় কে বরণ করে নেয়ার শিহরণই যেন অন্যরকম। প্রতি মূহুর্তেই চলেছিল নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার প্রস্ততি।
বন্ধু প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে শুরু করে ছিলাম নতুন বছরের দিনটি।
পুরোনো গ্লানি মুছে নতুন ভাবে বাঁচার প্রত্যয়ে শুরু হয় নববর্ষ। যে কারনে উম্মাদনাও একটু বেশি থাকে নববর্ষকে ঘিরে। বিভিন্ন উৎসব পার্বনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয় হয়ছিল নতুন বছরকে।
ইংরেজী নববর্ষ পালনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উৎসব হচ্ছে থার্টি ফাস্ট নাইট। বছরের শেষ এ দিনটিতে পুরো বিশ্ব জুড়ে পালন করা হয়ছে নববর্ষের উৎসব।
ঘড়ির কাঁটায় ঠিক বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সুর ও সঙ্গীতের মূর্ছণায় মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। আতশবাজির আলোকছটায় ছেয়ে গিয়েছিল আকাশ। শুরু হয়ছিল প্রিয়জনদের শুভেচ্ছ বার্তা পাঠানো।
একে অপরকে উপহার আদান প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেয় নতুন বছর।
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই পালন করে হয়েছে এই ইংরেজী নববর্ষ।
সবেমাত্র নতুন বর্ষ আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে। নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো আরেকটি নতুন বছরের। পথচলা এই নয়া বছরের অগ্রগতি যেন সঠিকভাবে সামনে এগিয়ে যায় তার জন্যও ছিল আকর্ষণীয় সব আয়োজন। মনে হয় নতুনকে নতুনরূপে বরণ করলে বা সাদর সম্ভাষণ না জানালে পুরোনটাই আঁকডে থাকবে। তাই তো উৎসমুখর পরিবেশে গোটা দুনিয়ার মানুষের পাশাপাশি আমাদের দেশের মানুষও একত্মতা ঘোষণা করে, বর্ষবরণ করে নিয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণদের আবেশী বা আনন্দঘন চিন্তা-ভাবনা। বাঙালীর ইতিহাস ঐতিহ্য হাজার বছরের। বারো মাসে তেরো পার্বণে অভ্যস্ত বাঙালি জাতি খুবই উৎসব প্রিয়। যে কারনে নিজস্ব উৎসব ছাড়াও অন্যের উৎসবেও রঙ ছড়াতে দ্বিধাবোধ করেনা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ জাতি ইংরেজি নববর্ষ পালন করে থাকে বেশ জাকজমক পূর্ন ভাবে। প্রিয়জনকে ফুল, মিষ্টি আর কার্ড আদান প্রদানের মাধ্যমে বরণ করে নেয় হয় নতুন বছরকে। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। গান, আলাপ চারিতা, উপহার আদান প্রদান আর ঘুরে বেড়ানো ট্রেডিশন এখন এদেশেও চালু হয়েছে। যদিও ইংরেজি বলা হয় তথাপি গ্রেগরিয়ানের ক্যালেন্ডার বিশ্ববাসীর সম্পদ। কারও নিজস্ব নয়। আমাদের দেশেও এর শিকড় অনেক গভীরে। গ্রাম বাংলার কিছু অঞ্চলে বাঙালীর নিজস্ব ক্যালেন্ডার ফলো করা হলেও সমাজ রাষ্ট্রের সব কাজ গ্রেগরিয়ান ক্যানেন্ডারকে অনুসরন করে করা হয়ে থাকে। যে ইংরেজী নববর্ষ আমাদের জীবনে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

ইংরেজী নববর্ষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে বছরের শেষদিনটিতে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২ বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মুখরিত হয়ে ওঠেছিল পুরো বিশ্ব। সমম্বরে চিৎকার করে ওঠে হ্যাপি নিউ ইয়ার বলে। ঘুম ভাঙ্গা মানুষেরা জড়ো হয় নতুন অভিযাত্রা, নতুন রূপান্তরের তাগিদে। গেয়ে ওঠে নববর্ষের গান। আমাদের দেশে ইংরেজী নববর্ষের দিন সরকারী ছুটি না থাকলেও অন্যান্য দেশে রয়েছে। কারন থার্টি ফাস্ট নাইট এত বেশি উৎসবের মেজাজে থাকে যার ফলে পরের দিন কর্মব্যস্ত মুড আর আসেনা। আমাদের দেশেও থার্টিফাষ্ট নাইট জাতীয় ভাবে পালন করা না হলেও পাড়ায় পাড়ায় কিংবা মহল্লায় বেশ জাঁক জমক ভাবেই তা পালন করা হয়। থার্টি ফাষ্ট নাইট এর সঙ্গে একাত্বতা প্রকাশকারী বোদ্ধদের মতে, এদেশে থার্টি ফাষ্ট নাইট ভুল ব্যাখ্যায় পালিত হয়। এলকোহল কিংবা মাদকের নেশায় ডুবে হৈ হুল্লড় করাই বুঝি থার্টি ফাষ্ট নাইট। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। শীত প্রধান দেশে এলকোহল অনেকটা পানি খাওয়ার মতোই স্বাভাবিক। ওরা এটাতে অভ্যস্ত। এবং এর জন্য ওরা জ্ঞানহীন কোন কাজ করে বসেনা। পরিবার পরিজন নিয়ে খাওয়া দাওয়া, গান গাওয়া উপহার আদান প্রদান করা কিংবা ড্যান্স পার্টিতে এটেন্ট করা পর্যন্তই। যা তাদের কালচারে খুবই মানানসই। আমাদের দেশেরও নিজস্বতা আছে। আমরারও আমাদের মতো করে উদ্যাপন করতে পারি। কিন্তু অন্যের টা ধার করতে গিয়েই বাধিয়ে ফেরি বিপত্তি। একটি বছরের বিদায় আর নতুন বছরের আগমন সত্যিকার অর্থেই জীবন যাপনে প্রভাব ফেলবে। বিষাদের গ্লানি দূর করে নতুনকে স্বাগত জানানোর উম্মাদনা থাকবেই। সেটা উপহার আদান প্রদান, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে, গান গেয়ে কিংবা বর্ষ বিদায় ও স্বাগত অনুষ্ঠান করে এবং পরিবার পরিজনকে ভালো সময় উপহার দিয়ে পালন করা যেতে পারে। কিন্তু খারাপ কোন পন্থায় যা দৃষ্টি কটু এমন কিছু দিয়ে বর্ষ বরণ কখনই হতে পারেনা। এতে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর চেয়ে অপমানই করা হয়। পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই থার্টি ফাস্ট নাইট নিয়ে অনেক উম্মাদনা থাকে কিন্তু এর মধ্যেও থাকে নির্মলতা। কখনই থার্টি ফাষ্ট নাইট নিয়ে কোন দূর্ঘটনা বা দূর্নাম পাওয়া যায়নি। অথচ আমাদের সমাজে থার্টি ফাষ্ট নাইটে কোনও কোন দূর্নাম কিংবা দূর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়। অর্থাৎ নির্মল আনন্দ যেন খুজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাড়ায়। তবে মানুষ এখন অনেক সচেতন। যে কারনে এদেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্মল আনন্দের থার্টি ফাষ্ট নাইট অনুষ্ঠানের দেখা মেলে। বিশেষ করে ঢাকা শহর এখন ফ্ল্যাটের শহর বলা যায়। একই ছাদের নিচে অনেকগুলো ফ্ল্যাট। এই ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে থার্টি ফাষ্ট নাইটে এক সঙ্গে রাতের ডিনারের মাধ্যমে উদযাপন করে থাকে থার্টি ফাষ্ট নাইট। কর্ম ব্যস্ত জীবনে ফ্ল্যাটের সবার সঙ্গে দেখা হওয়া এবং আলাপ চারিতার গুঞ্জনমুখর এ সময়টিই বা কম কি।

একটি বছর গড়িয়ে আরেকটি বছর শুরু হরো।

গত বছরের সব ব্যর্থতাকে মুছে দিতেই নতুন বছরের আগমন ঘটে এটাই আমাদের বিশ্বাস। দেশের মঙ্গল কামনা কিংবা নিজেদের মঙ্গল কামনা যাই বলি না কেন এ যেন সৌহার্দ সম্প্রীতির জন্যই। হাতে হাত ধরে সুন্দর একটি বছর পার করার কামনা, সাফল্যের ঝুড়ি প্রসারিত করা, বিশ্বের মানচিত্রে সফলদেশের একটি হিসেবে নিজের দেশকে তুলে ধরাই সবার কাম্য। আমাদের ছোট এ দেশ। আমাদের অবহেলাতেই নষ্ট করে ফেলছি। নতুন বছরের দৃঢ প্রত্যয় হওয়া উচিত আমাদের এ হাত দিয়েই যেন দেশের মঙ্গল বারতা বয়ে নিয়ে আসতে পারি। একেকটি বছর এখন থেকেই যেন আমাদের সফলতার বছর হয় সে লক্ষেই দেশের প্রতি নিবেদিত হওয়া উচিত। আমাদের সফলতার বার্তা ও নতুন বছরের শুভেচ্ছ আমরাই পৌছে দিব বিশ্ববাসীকে।
আর চিৎকার করে বলবো শুভ হোক নতুন বর্ষ।
কিন্তু এই চিৎকারের সাথে সাথে এই মহামারি করোনা ভাইরাসের সময় সঠিক ও সুন্দরভাবে পথ চলার সিন্ধান্ত গ্রহন করে চলা।
১.স্বাস্থ্য বিধি নিয়ম মেনে চলা।
২.ঘর থেকে হবার সময় মাস্ক পরে বের হতে হবে।
৩.বারবার হাত ধুতে হবে।
৪.হ্যান্ডসেক, কোলাকুরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫.পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করুন।
৬.প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করুন।
৭.বাসি খাবার পরিহার করুন।
৮.পুস্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন।
৯.অতিরিক্ত চিন্তা পরিত্যাগ করার চেষ্টা করুন।
১০.প্রতিদন কমপক্ষে ৭/৮ থেকে ১২/১৩ গ্লাস পান
করুন।
১১.প্রাণ খুলে হাসতে চেষ্টা করুন।
সর্বশেষ ধর্মিয় জীবন যাপন করুন।
নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন।
ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী
সম্পাদক
ওয়ার্ল্ড খবর২৪
E-mail-lorencetimo@gmail.com.
ভিজিট করুন-
www.Worldkhobor24.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com