রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
Logo

করোনা ভাইরাসে কেড়ে নিবে এবারের ঈদের কোলাকুলির আনন্দ

Dr.Lorance Timo Bairagi.(সম্পাদক) / ১৩৮ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

করোনার কারণে কেড়ে নিবে ঈদের কোলাকুলি ও হ্যান্ড সেকের আনন্দ।কিন্তু মনের আনন্দ তো কেড়ে নিতে পারবে না এই করোনায় ?
করোনা ভাইরাসের মধ্য দিয়ে এবারের ঈদ যে ভাবে কাটানো হবে!

এ বছরের ঈদ।


ঈদ মানের আনন্দ,ঈদ মানেই সকালে ঘুম থেকে উঠে ঈদগাহেে নামাজ আদায়ের পরে, একে আপরের সাথে কোলাকুলির মাধ্যমে ভালোবাসার বন্ধনে অবদ্ধ হওয়া।
ছোট বড়,ধনী, গরীব সবাই ঈদের আনন্দে সমান।
সেদিন থাকে না কোন ভেদাভেদ।
কিন্তু ঈদের এই সব কিছু কেড়ে নিল মহামারি করোনা ভাইরাস।
ঈদের এই আনন্দে এনে দিল ভয়,দু:খ,বেদনা ও দূরত্ব ভয়ঙ্কর দানব সংক্রমণ করোনা ভাইরাস।

সাওম আরবি শব্দ। এর সমার্থক শব্দ রোজা। রোজা ফারসি থেকে আগত। সাওম শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সাওম বা রোজা অন্যতম

ইসলামের পঞ্চ-স্তম্ভের অন্যতম একটি হলো রোজা। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন।
রোজা শুধু আমাদের ওপর ফরজ করেছেন তা কিন্তু নয় বরং আমাদের পূর্ববর্তী সবার ওপরই রোজার বিধান ছিল।
এ রোজা সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা খোদাভীরু হতে পার। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)।

রোজার শর্ত :

★ নিয়ত করা
★ সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা
★ যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকা।

রোজা রাখার ৪ শর্ত :

★ মুসলিম হওয়া।
★ অক্ষম না হওয়া।
★ ঋতুস্রাব থেকে বিরত থাকা নারী।
তথ্য সূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দশম সংস্করণ :।

ত্রিশটি দিন রোজা রাখার পর, যখন ঈদ আসে তখন সবার মনে আসে আনন্দের আত্তহারা ।সেই আনন্দের আত্তহারায় কবি লিখেছেন তার গান –
” ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”
১৯৩১ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ও সুরারোপিত গান।

আজ করোনার কারনে কবির এই গানের আনন্দ ঘরে বসেই করতে হবে,কারণ-
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ৩০শে মে পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে ঈদের আগে সারাদেশে যাত্রীবাহী সব পরিবহন চলাচলের ওপর কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করেছেন

ঈদের দিনে কারো বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া হবে না,পারবে না যেতে নিজের গ্রামে ঈদ করতে।


যার ফলে কেউ তার নিজ বাড়িতে যেতে পারবে না,পারবে না ঈদের দিনে কারো বাড়িরে বেড়াতে যেতে।পারবে না কারো সাথে কোলাকুলি করতে।
কারণ আমরা জানি যে,এই করোনা ভাইনাস হলো সংক্রমণ ব্যধি,যা একে অপরের স্পর্শে ছড়ায়।

যেহেতু করোনা ভাইরাস একে অপরের স্পর্শে ছড়ায় তাই, সরকার ঈদের আগে এবং পরে সাত দিন সারাদেশে সড়ক এবং নৌপথে যাত্রীবাহী সব ধরণের যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা করছেন।
এমনকি ঈদের সময় ব্যক্তিগত যানবাহনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হয়েছে।
যারা যে শহরে বা জেলায় আছেন, তারা ঈদের সময় অন্য জেলায় বা গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবেন না। সেটাই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

করোনার আক্রান্তের কারণে এবং নিয়ম পালনের জন্য সবাই কষ্টে জীবন যাপন করায় ঈদের আনন্দ কমে যাচ্ছে।


আজ সকল মুসলিম ধর্মাবলম্বিসহ এবং অন্য ধমর্বলম্বির মানুষেরা একটি ভয়াবহ সময় পার করছে।
কিছুদিন পর আসছে মুসলিমদের ঈদের উৎসব, পূর্বের ঈদের মতো এই বছরের ঈদের সময়টা আমাদেরকে ভিন্নভাবে উদযাপন করতে হবে করোনা ভাইরাসের কারণে।
করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যে ঈদ পালন করা অত্যন্ত জরুরি। তবেই আমরা পরবর্তী সময়গুলো সুন্দরভাবে কাটাতে পারবো।

এবারের ঈদ হয়তো আগের ঈদগুলোর মতো তত জমজমাট আনন্দের হবেনা কিন্তু আমরা আমাদের মতো করে পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ পাব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আত্নীয়স্বজনের সাথে আমরা আমাদের এবারের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারবো। কিছু সীমাবদ্ধতার মাঝেই আনন্দ মুখোর হয়ে উঠুক করোনা কালের ঈদ আনন্দ।

কারণ আমরা আজ বন্দীত্বের জীবন যাপন করছি।আমাদের কারো কাছেই এই বন্দীত্ব জীবন সুখকর নয়, হোক সে মানুষ কিংবা পশুপাখি।
ছোট্ট এ জীবনে কেউই চায় না বন্দিত্বের স্বাদ নিতে। তবুও মাঝে মধ্যেই আমরা বন্দি হয়ে পড়ি,কখনো বা নিজেরাই নিজেদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য বন্দি করে রাখি।

এমনই একটি বন্দিদশা চলছে বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে।বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাবে আজ অবরুদ্ধ পুরো পৃথিবী। চারদিকে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। কিন্তু সামনে আসছে বহু আকাঙ্ক্ষিত পবিত্র ঈদ।
এই ঈদে সব মানুষেরই কোন না কোন পরিকল্পনা আছে কিভাবে কাটনো হবে ঈদের দিন,এবং ঈদের পূর্বে শপিং করা,বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঈদের দিন সিনেমায় যাওয়া। সব স্বপ্নই ভেঙে গেলো পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারীর করোনা ভাইরাসের কারণে।
তাই মন খারাপ প্রত্যকটি মানুষেরই।

এবারে শপিং বন্ধ।


তাই আসুন আমরা আমাদের এই বলে সান্তনা দি, এই ঈদে না হয় শপিং নাই করলাম, ঘরে বসে নতুন রান্না রেসিপি ট্রাই করা হবে, ঘরে বসেই না হয় টিভিতে পরিবারের সাথে ঈদ অনুষ্ঠান উপভোগ করব, বন্ধুদের সাথে ভিডিও চ্যাটিং এ না হয় জমিয়ে আড্ডা দিব,তবু না হয় এবার সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখব।

আগের মতো স্বাভাবিক এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আশায় আমরা সবাই সচেতন হব।
সরকারের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলব।
এবং ভবিষতে নতুন করে স্কুলে,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থল এবং স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করব।
ফিরে পাবো আমাদের মুক্ত জীবন।
ভবিষ্যৎ ঈদ হবে আরো সুখ ও আনন্দের।
এই প্রত্যাশায় আমাদের মনে রাখতে হবে-

” আমরা যদি ঘরে থাকি, বার বার সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি, তা হলে আমরা নিজে সুস্থ থাকব ও অন্যকে সুস্থ থাকতে সহয়তা করব”।
এবছরের ঈদের এই হোক অঙ্গিকার।

ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী
সম্পাদক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com