শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
মারা গেলেন ফুটবলের জাদুকর ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর নয় ভর্তির পরীক্ষা, এবার স্কুলের সব শ্রেণিতে ভর্তি লটারিতে মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হবে। অবশেষে পরাজয় মেনে নেওয়ার প্রক্রিয়া করছেন ট্রাম্প। ২৫ পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ২৮ ডিসেম্বর কুমিল্লায় বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা। ‘শুধু রাজস্ব আদায় নয়, নাগরিক সেবাও বাড়াতে হবে’-ওয়ার্ল্ড খবর২৪ সিলেটে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন-ওয়ার্ল্ড খবর২৪ যে ধর্মেরই হোন না কেন, আমরা সবাই বাঙালি: সজীব ওয়াজেদ।ওয়ার্ল্ড খবর২৪ যুবলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র গতিতে ছুটে আসছে তাজমহলের দ্বিগুণ গ্রহাণু, পৃথিবীর কাছ দিয়ে বেরিয়ে যাবে কাল।

ভাইরাস কি ?

ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী / ৩৬০ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ২০ মে, ২০২০

বর্তমানে পৃথিবীর সবাই করোনা ভাইরাস আতঙ্ক!
সবাই বলছে বারবার হাত ধৌত করুন,পরিস্কার পরিচ্ছন থাকুন,সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন,হ্যান্ড সেক ও কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।মুখে মাক্স ব্যবহার করুন।আরো অনেক অনেক নিয়ম-কানুন, উপদেশ।
কিন্তু আমরা যদি ভাইরাস সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা রাখতে পারি, তাহলে সেই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য কারো উপদেশের প্রয়োজন হবে না।
নিজের রক্ষা নিজেই করতে পারব।
তাই ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
ভাইরাস কি?

ভাইরাস


ভাইরাস (Virus)হল একপ্রকার অতিক্ষুদ্র জৈব কণা বা অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভিতরেই মাত্র বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
ভাইরাসকে দেখতে হলে, ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা হবে। তাই বুঝতেই পারা যায় যে, ভাইরাস ধূলিকণার চেয়েও কতটা ছোট।
আমাদের চোখের সামনে কোটি কোটি ভাইরাস ভেসে বেড়ালেও দেখার সুযোগ নেই।

ভাইরাসকে জীব হিসেবে বিবেচিত হবে কিনা, এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিমত আছে। ভাইরাস মানুষ,পশু-পাখি, উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী।

এমনকি, কিছু ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যে বংশবৃদ্ধি করে- এদের ব্যাক্টেরিওফেজ (Bacteriophage) বলা হয়।
ভাইরাস ল্যাটিন ভাষা হতে গৃহীত একটি শব্দ। এর অর্থ হল বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোন বিষাক্ত পদার্থকে ভাইরাস বলা হত। বর্তমান কালে ভাইরাস বলতে এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী বস্তুকে বোঝায়।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর বহু রোগ সৃষ্টির কারণ হল ভাইরাস। ভাইরাস কে জীবাণু না বলে ‘বস্তু’ বলা হয়। কারণ, জীবদেহ ডিএনএ,আরএনএ ও নিওক্লিক এসিড দিয়ে গঠিত,প্রোটিন তাই ভাইরাস অকোষীয়।

ভাইরাসের অবস্থান:

উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া , সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বাতাস, মাটি, পানি ইত্যাদি প্রায় সব জড় মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে। কাজেই বলা যায়, জীব ও জড় পরিবেশ উভয়ই ভাইরাসের আবাস।

ভাইরাসের আয়তন :


ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্ষুদ্র। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায়না। সাধারণত এদের আকার 10 nm থেকে 300 nm পর্যন্ত হয়ে থাকে।তবে কিছু ভাইরাস এর চেয়ে বড় হতে পারে।

ভাইরাসের আকার-আকৃতি:

ভাইরাস সাধারণত নিম্ন লিখিত আকৃতির হয়ে থাকে। গোলাকার, দণ্ডাকার, বর্তুলাকার, সূত্রাকার, পাউরুটি আকার, বহুভুজাক্রিতি, ব্যাঙ্গাচি আকার প্রভৃতি।

ভাইরাসের আক্রান্তে যে রোগ গুলো হয় তা হলো :

মানুষের রোগ :
———–

১.বসন্ত (Pox)-ভেরিওলা
২.জলাতঙ্ক
৩.জন্ডিস
৪.ডেঙ্গু
৫.হাম-রুবিওলা
৬.ভাইরাল ডায়ারিয়া
৭.সাধারণ ঠান্ডা
৮.এইডস(AIDS)
৯.ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
১০.সার্স(SARS)
১১.ভাইরাল হেপাটাইটিস
১২.কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস ১৯)
১৩.কয়েক প্রকার ক্যান্সার
১৪.সার্ভিকাল ক্যান্সার
১৫.কাপোসি সারকোমা
পশু-পাখির রোগ:
————

১.বার্ড-ফ্লু
২.ক্যানাইন ডিস্টেম্পার (Canine distemper)
৩.ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিসিজ (Foot-and-mouth disease).

উদ্ভিদের রোগ:
———-
টোব্যাকো মোজেইক ভাইরাস {Tobacco mosaic virus } বা টিএমভি ( TMV ).

ভাইরাস ঘটিত রোগ প্রতিরোধ:
———————
বসন্ত জাতীয় ভাইরাস ঘটিত রোগর প্রতিরোধক হিসেবে ভ্যাক্সিন (Vaccine) প্রথম আবিষ্কার হয়।

তবে পৃথিবীতে ভয়ংকর ৭ ভাইরাস আছে। এই ছয়টি ভাইরাস হলো –
১.ইবোলা ভাইরাস :
এ পর্যন্ত ঘাতক ভাইরাসের শীর্ষে আছে ইবোলা ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এর ছয়টি প্রকরণ শনাক্ত করা গেছে। প্রকরণভেদে ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলে তাকে বাঁচানো সম্ভব। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ১৯৭৬ সালে।

ইবোলা ভাইরাস।

২.রেবিজ ভাইরাস:
রেবিজ ভাইরাস নিউরোট্রপিক অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ ভাইরাসের সংক্রমণে যে রোগটি হয়, তার নাম জলাতঙ্ক।

রেবিজ ভাইরাস।


৩.এইচ৫ এন ১ (H5 N1) রূপান্তরিত এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস:
এই ভাইরাসটি মিউট্যান্ট। ডাচ ভাইরোলজিস্ট রন ফুচিয়ে গবেষণাগারে বার্ড ফ্লু ভাইরাসকে রূপান্তরিত করেন।

এইচ৫ এন ১ (H5 N1) রূপান্তরিত এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস।


৪.মারবুর্গ ভাইরাস :
জার্মানির একটি শহরের নামে এই ফিলোভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও এটি ইবোলা ভাইরাসের চেয়ে কম মারাত্মক। তবে এ দুটি ভাইরাসের অনেক মিল আছে। উচ্চ মারণক্ষমতা অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষ এ ভাইরাসে মারা যায়। মারবুর্গ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পঞ্চম বা সপ্তম দিনে সংক্রামিত ব্যক্তির প্রচণ্ড জ্বর এবং সেই সঙ্গে রক্তবমি, মলের সঙ্গে রক্ত, নাক, দাঁতের মাড়ি এবং যোনিপথে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ অসুস্থতার পরে পুরুষদের মধ্যে অর্কিটিস নামক অণ্ডকোষের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। আশার কথা, এ ভাইরাস খুব সহজে সংক্রামিত হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশার কারণে তার মল, প্রস্রাব, লালা বা বমির মাধ্যমে মারবুর্গ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।

মারবুর্গ ভাইরাস।


৫.ডেঙ্গু ভাইরাস :
ডেঙ্গুর আরেকটি নাম আছে, তা হলো ‘ট্রপিক্যাল ফ্লু’। এডিস মশার কামড় দ্বারা সংক্রামিত হয় ডেঙ্গু। অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে কম বিপজ্জনক। ডেঙ্গু ভাইরাস সাম্প্রতিককালে ইউরোপেও হানা দিয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ১৪১টি দেশে আনুমানিক ৩৯ কোটি ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ডেঙ্গু জ্বরে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তি মারাত্মক রক্তক্ষরণকারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে প্রাণ হারায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

৬.এইচআইভি বা এইডস ভাইরাস:
এই ভাইরাসটি পোষক কোষে আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। সক্রিয় হয়ে উঠলে পোষক দেহের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিকল করে দিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

এইচআইভি বা এইডস ভাইরাস:


৭.নভেল করোনা (Covid-19)ভাইরাস :
ইদানীং যে ভাইরাসটি সারা বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে, তা হলো করোনাভাইরাসের একটি প্রকরণ নভেল করোনা (Covid-19)। এ পর্যন্ত যে তথ্য আমাদের হাতে আছে, তাতে দেখা যায়, এ ভাইরাসে আক্রান্ত ১০০ জনে প্রাণ হারিয়েছে ৪ জনের কম ব্যক্তি এবং অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে সেরে উঠেছে। করোনা নামের ভাইরাসের নতুন রূপটি এখনো পুরোপুরি উন্মোচন করেনি। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এর মতিগতি বুঝতে এবং উঠেপড়ে লেগেছেন এর প্রতিষেধক উদ্ভাবনের। এ ব্যাপারে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা অচিরেই বিশ্ববাসীকে সুখবর দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

নভেল করোনা (Covid-19)ভাইরাস :


(তথ্যসূত্র: ব্যানিয়ার্ড এসি ও ট্রুডো এন, ‘রেবিজ প্যাথজেনেসিস অ্যান্ড ইমিনোলজি’)
এই ৭টি ভাইরাসই মারাত্মক।

সাবানে কি ভাইরাস মরে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার কতোটা কার্যকর?

যে কোনো ভাইরাসের বংশবিস্তারের জন্য পোষক হিসেবে সজিব কোষের দরকার হয়। এ কারণে জীবাণুমুক্ত না করে হাত নাকে, মুখে বা চোখে দেয়া যাবে না। যতোটা পারা যায় হাত দিয়ে এটা ওটা ধরা এড়িয়ে চলতে হবে।

হাত জীবাণুমুক্ত করার সবচেয়ে ভালো ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিমুক্ত জিনিস হলো সাবান পানি। আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইকোবায়োলজির ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, প্রবাহিত পানি (ট্যাপ) ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জেল ব্যবহারের চাইতে ভালো। কারণ জেল দিয়ে হাত ভালোভাবে ঘষা যায় না।

সাবানের মৃদু ব্যাকটেরিয়ানাশক বৈশিষ্ট্য থাকলেও ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য কিন্তু যথেষ্ট নয়। সাবান মূলত ময়লা পরিষ্কারক। সুতরাং হাত ভিজিয়ে ভালো করে সাবান লাগিয়ে নিতে হবে। হাতের দুই পিঠ, আঙ্গুলের ফাঁক এবং নখের নিচে সাবান পৌঁছাচ্ছে কিনা খেয়াল করুন। এরপর দুই হাত ভালোভাবে ঘষে কবজি পর্যন্ত ফেনা তুলে সাবান মাখাতে হবে। এবার পানির নিচে ২০ মিনিট ধরে ধুতে হবে। হাতের জীবাণু ধ্বংসে এটিই সর্বোত্তম পদ্ধতি। কারণ সাবান লাগিয়ে হাত ধুলে ময়লার সঙ্গে ভাইরাসও ধুয়ে যায়। হাত ধোয়ার পর ডিসপোজেবল টাওয়েল দিয়ে হাত মুছে শুকিয়ে ফেলার পর টাওয়েলটি দিয়ে ধরে ট্যাপ বন্ধ করতে হবে। এর পর সেটি ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
আরো একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে যে, গরম বাতাসে হাত শুকানোর চাইতে কাগজের টাওয়েলে হাত মোছা ভালো। কারণ টাওয়েল দ্রুত এবং পুরো হাত শুকিয়ে ফেলতে পারে। ভেজা হাতে জীবাণু দূষণ বেশি হয়।
তাই আসুন আমরা যে কোন ভাইরাসের থেকে রক্ষা পাওয়ার একটিই উপায়, তা হলো সব সময় সর্তকতার সাথে জীবন যাপন করা,এবং পরিস্কার পরিচ্ছন জীবন যাপন করা।
ঘরে থাকুন,
সুস্থ জীবন করুন,
নিজে বাঁচুন,অন্যকে বাঁচতে সহায়তা করুন।

ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী
ওয়ার্ল্ড খবর২৫


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com