মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :

করোনা ভাইরাসে যুদ্ধে জয়ী ভিয়েতনাম দেশ

Dr.Lorance Timo Bairagi. / ২৮৫ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ১৬ মে, ২০২০

ওয়ার্ল্ড খবর২৪
চীনের সঙ্গে বিশাল সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষের দেশ ভিয়েতনাম।
ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত একটি একদলীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র।
১৯৪৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। দেশের সর্বশেষ সংবিধান ১৯৯২ সালের ১৫ই এপ্রিল প্রণীত হয়। ভিয়েতনামের সরকার ব্যবস্থা তিনটি বিভাগ নিয়ে গঠিত। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বে আছেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা ও অন্যান্য কমিশনের প্রধান। জাতীয় সংসদের হাতে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ন্যস্ত। বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য আদালত নিয়ে গঠিত। ভিয়েতনামের সংবিধান অনুসারে কেবল একটিই রাজনৈতিক দল স্বীকৃত এবং বৈধ, যার নাম ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি। এর সদস্যসংখ্যা ৩০ লক্ষেরও বেশি। এটি অতীতে ভিয়েতনাম শ্রমিক দল নামে পরিচিত ছিল, যা আবার ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্দোচীন কমিউনিস্ট পার্টিরই বিবর্তিত রূপ।

ভিয়েতনাম দেশটি সমাজতান্ত্রিক দেশ হয়েও নিজ ভূখণ্ডে ৩০০’র সামান্য বেশি কোভিড-১৯ রোগী এবং প্রাণহানি শূন্য রেখে রেকর্ড গড়ে এই মহামারি জয়ে রূপকথার এক গল্প তৈরি করেছে।

এই গল্পের শুরুতে এক বার দেখে নি ভিয়েতনাম দেশের সার্বিক চিত্র :
২০ জানুয়ারী : প্রথম শনাক্ত করোনা ভাইরাসের।
০১ ফেব্রুয়ারি :চীনের সাথে ফ্লইট বন্ধ করে দেওয়া
হয়।
০২ ফেব্রুয়ারি :সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা
করা হয়।
১৪ মার্চ : সকল গণপরিবহন বন্ধ করা হয়।
১৬ মার্চ। : মাস্ক না পরলে জরিমানা
চালু,পাবলিক প্রেস বন্ধ ঘোষণা ও
৫৫+ নাগরিকদের ঘর থেকে বের
হওয়া বন্ধ।
২৭ মার্চ। :আন্ত:জেলা পরিবহন বন্ধ।
দু’জনের বেশি বাইরে দেখলে জরিমানা।
এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে সেই দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা তিনশতর বেশি।
কিন্তু কারো মৃত্যু হয়নি।

ভিয়েতনাম দেশের করোনার বিস্তারাত নিম্ন দেওয়া হলো :
কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের সর্বশেষ ঘটনা শনাক্ত হওয়ার প্রায় এক মাস পার করে দেশটি ইতোমধ্যে সবকিছুই খুলতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অন্যান্য দেশ যখন করোনা সংক্রমণ এবং বিশাল মৃত্যু দেখেছে; তখন ভিয়েতনাম দেখেছে সামান্য সংক্রমণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় পুরোপুরি সফল হয়েছে।
তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনামের ব্যয়বহুল এবং শ্রম ঘনিষ্ঠ পদ্ধতির ত্রুটি থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিয়েতনামের সফলতা থেকে শিক্ষা নিতে বেশিরভাগ দেশই দেরী করে ফেলছে।

কঠোর, তবে বুদ্ধিদ্বীপ্ত ব্যবস্থা ভিয়েতনাম দেশের :
ভিয়েতনামে করোনার একজন রোগী না পাওয়া গেলেও জানুয়ারির শুরুর দিকে ভিয়েতনামের সরকার রহস্যজনক নতুন নিউমোনিয়া মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল; যদিও ওই সময় উহানে অজানা এই রোগে মাত্র দু’জন মারা যান।

২৩ জানুয়ারি ভিয়েতনাম দেশটিতে প্রথম ভাইরাস শনাক্ত হয় এক ব্যক্তির শরীরে; এই ব্যক্তি সেই সময় উহান থেকে হো চি মিন শহরে ফিরে আসেন। ওইদিনই ভিয়েতনামের জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়।
হো চি মিন শহরের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ক্লিনিক্যাল রিসার্চের (ওইউসিআরইউ) পরিচালক অধ্যাপক গাই থওয়েটিস ভিয়েতনাম সরকারের সংক্রামক ব্যাধি কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, এটি খুব, খুব দ্রুত কার্যকর করা হয়; যা বেশ কঠোর মনে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় এই কাজটি ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিদ্বীপ্ত।

ভিয়েতনাম যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল বিশ্বের অন্যান্য দেশের সেসব ব্যবস্থা নিতে কয়েক মাস লেগে যায়।

ভিয়েতনাম শুরুতেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং চীনের সঙ্গে সব সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। কঠোর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সীমান্ত ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বৃদ্ধি করে।

চন্দ্রবর্ষের ছুটিতে স্কুল বন্ধ করে দেয় জানুয়ারির শেষের দিকে; মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ব্যাপক পরিসরে, কষ্টসাধ্য এবং শ্রমঘনিষ্ঠ উপায়ে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যকর শুরু করে।

ভিয়েতনাম এমন একটি দেশ যারা অতীতে অনেক প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করেছে। ২০০৩ সালের সার্চ থেকে শুরু করে ২০১০ সালের অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাবও মোকাবিলা করেছে।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ের দিকে ভিয়েতনাম দেশটিতে আগত প্রত্যেককে এবং তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন; তাদের সবাইকে ১‌৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। এর ব্যয়ভার পুরোটাই বহন করেছে সরকার; যদিও থাকার জায়গাগুলো বিলাস বহুল নয়।তথাপি নিরাপদ।
ভিয়েতনামে করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত সংক্রমিতদের প্রায় ৪০ শতাংশই জানতেন না যে তারা ভাইরাসটি বহন করছেন। তারা পরীক্ষার কথা চিন্তাও করতেন না।তারপরেও তারা সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছে এই মহামারি করোনা ভাইরাস।

ভিয়েতনাম সারাদেশে পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করেনি। তবে যখন কোনও ক্লাস্টার পাওয়া গেছে সেই এলাকায় ব্যবস্থা নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে হ্যানয়ের উত্তরের সন লোই শহরে বেশ কয়েকজন শনাক্ত হন। পরে এক হাজারের বেশি মানুষের ওই এলাকা বন্ধ করে দেয়া হয়। একই ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর কাছে হা লোই শহরে; যেখানে ১১ হাজার মানুষের বসবাস। একটি হাসপাতালও সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়।
এসব এলাকায় দুই সপ্তাহের মধ্যে কেউ প্রবেশ কিংবা বের হতে পারবেন না। স্থানীয় এই ব্যবস্থা আবারও কার্যকর করা হবে যদি সেখানে ভাইরাসটি ফিরে আসে। এর অর্থ হলো- ভিয়েতনাম সারা দেশে ব্যাপক সংখ্যক পরীক্ষা করেনি।
তবে যত লোকের পরীক্ষা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিল ছিল অন্যান্য সকল পরীক্ষার রিপোর্টের সঙ্গে। সেখানে কোনও কিছু লুকানো হয়নি।
যা অন্যান্য দেশের জন্য একটি উদাহরণ।

বাংলাদেশের কেহ যদি এ ধরনের উপসর্গবিহীন বাহক থাকে তাহলে এটিকে নিয়ন্ত্রণের একটি মাত্র উপায় আছে।
আর সেটি হলো ভিয়েতনাম যা করেছে সেটি অনুসরণ করা। আর যদি সেটি না পারা যায় তবে, এই লোকদের দ্বারা করোনার সংক্রমণের বিস্তার ঘটাবে আরো বেশি।
তাই আসুন আমরা সবাই সরকারি আইন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলি।
নিজে সুস্থ থাকি, অন্যকে সুস্থ্য রাখি।
ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী
সম্পাদক
ওয়ার্ল্ড খবর২৪
মোবাইল:01711-114817
E-mail-lorencetimo@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com