বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নভেম্বরে এসএসসি এবং ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা-worldkhobor24 সোমবার থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস-worldkhobor24 মুজিববর্ষ উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের উদ্বোধন ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। শৈলেন হোমিও কেয়ারের নতুন স্থানে শুভ উদ্বোধন ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-ওয়ার্ল্ড খরব২৪ সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তার এবং অবশেষে কারাগারে প্রেরণ ১৫ মে – বিশ্ব পরিবার দিবস। ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে লড়াই এখন যেরকম তীব্র হয়ে উঠেছে তা একটি “পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে” রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।

জেনে নিন কে এই রুনু বেরোনিকা কস্তা ?ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী।ওয়ার্ল্ড খবর২৪

ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী। / ২৩২ বার
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১

ওয়ার্ল্ড খরব২৪ এর পক্ষ থেকে রুনু বেরোনিকা কস্তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আপনি জাতির গর্বিত সন্তান।
গতকাল ৩বিকাল টায় দেশে কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচী উদ্বোধন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশের সফল প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশের ইতিহাসে যে ২৫জন সাহসী মানুষ প্রথম টিকা গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে সবার প্রথম টিকা নিয়েছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু বেরোনিকা কস্তা।
টিকা গ্রহণের পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ভয় লাগছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি হেসে টিকা গ্রহণে তার সম্মতি প্রকাশ করেন। টিকা গ্রহণ শেষে সাহসিকতার জন্য রুনু কস্তার প্রসংশা করে প্রধানমন্ত্রী তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন।

বাবা বার্ণাড কস্তা ও মা বিনীতা কস্তার ঘরে রুনু কস্তার জন্ম ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ অক্টোবর গাজীপুর জেলার টংগীর পদ-হারবাইদ (তালটিয়া) গ্রামে। তিনি ঢাকার সাভারের সেন্ট যোসেফস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন ১৯৯৮ সালে । এরপর মানুষের সেবায় জীবনব্রতী হয়ে যোগ দেন কুমুদিনী নার্সিং স্কুল ও হাসপাতালে। চার বছরের নার্সিং ডিপ্লোমা শেষে ২০০২ সালে বেরিয়ে আসেন প্রশিক্ষিত নার্স হিসেবে।

২০০৫ সালে বিয়ের বন্ধনে জড়ান পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের খরবাড়িয়া গ্রামের সলোমন গমেজের সন্তান পবন গমেজ-এর সাথে। পারিবারিক জীবনে আমাদের এ সাহসী সেবিকা দুই সন্তানের জননী। ১৩ বছর বয়সী মেয়ে প্রথা গমেজ ৯ম শ্রেণির ছাত্রী, আর ছেলে প্রয়াস-এর বয়স ৯বছর। একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত স্বামী ও সন্তান নিয়ে রুনুর সুখী সংসার।

রুনুর সম্পর্কে তার স্বামী পবন গমেজ বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই রুনুর মধ্যে গরোপকারী মনোভাব লক্ষ করেছি। সব জায়গাতে ও মানুষকে সাহায্য করে, উপকার করে। সহকার্মীদের নানান রকম সমস্যায় সে এগিয়ে যায়, পাশে দাঁড়ায়।’

যোগ করেন, ‘দেশে কোভিড আসার পর থেকেই সে এ বিষয়ে সচেতন ছিলো। সরকার যখন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে করোনার জন্য নির্ধারণ করলো এবং তাকে করোনা ওয়ার্ডে সেবা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করলো, রুনু সাদরেই তা গ্রহণ করেছে এবং মুমূর্ষু মানুষের পাশে নিজেকে সপে দিয়েছে। এরপর যখন বসুন্ধরাতে কোভিড রোগীদের আইসোলেশন সেণ্টার বা পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হলো তখন তাকে সেখানকার সুপারভাইজার নিয়োগ করা হলো। তখনও এ দায়িত্ব সে হাসি মুখে মেনে নিয়েছে। আমরা পারিবারিকভাবে ওকে খুব মিস করতাম। কারণ সে তখন আমাদের সাথে থাকতো না। এক সপ্তাহ ডিউটি করে হোটেলে আইসোলেশনে থাকতো। কিন্তু মানুষের সেবা করার জন্য আমরা তা মেনে নিয়েছি। পরে সে আবার পূর্বেও কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে আরও জটিল রোগীদেও ডায়ালিসিস করার দায়িত্ব নিয়েছে।
টিাদানের জন্য নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা আগে থেকে কিছুই জানতাম না যে, সরকার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রুনুকে নির্বাচন করেছে। হাসপাতালের মেট্রন যখন তাকে জানায়, তখন সে বিষয়টি আমার সাথে পরামর্শ করে। আমি দেখলাম ওর নিজের আগ্রহ আছে, মানুষের ভুল ভাঙ্গানোর জন্য সে ঝুঁকি নিতে চায়, তখন সম্মতি দিলাম। ভাবলাম এটা জনসেবা। আর সে তো জনসেবার জন্যই জীবন পণ করেছে। এ দেশের মানুষের মধ্যে টিকা সম্পর্কে প্রচুর ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে, মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়েছে। এসবের অবসান হওয়া উচিৎ। টিকা যে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এটা দেশের মানুষের জানা উচিৎ। আমরা চেয়েছি মানুষের ভুল ভাঙ্গুক, টিকাটি যে সঠিক মানুষ তা জানুক।’

এই টিকার যদি কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বা কোন সমস্যা হয়, তাহলে? পবন গমেজ জানান, ‘রুনু যেহেতু একজন নার্স, নার্সিং পেশার সমস্ত বিপদ জেনেই সে এ পেশায় এসেছে। বিপদাপন্ন মানুষকে সেবা করতে তার জীবন উৎসর্গিত। যেহেতু সে জাতির জন্য জীবনের এ ঝুঁকিটা নিয়েছে, বিশ্বাস করি, তার কোন সমস্যা হলে অবশ্যই রাষ্ট্র-জাতি আমাদের পাশে থাকবে। আশা করি, কোন সমস্যা হবে না। আমরা ঈশ্বরের উপর ভরসা রেখেছি। প্রার্থনা করি, এ দেশ এবং বিশ্ব যেন দ্রুত কোভিড-১৯ মুক্ত হয়, পৃথিবীর একজন মানুষও যেন আর করোনায় মারা না যায়।’
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রকাশ করে রুনু কস্তা আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্য, সাফল্য, সমৃদ্ধি কামনা করছি।
তথাপি সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন,বারবার হাত ধুন,ঘর থেকে বের হবার সময় মাক্স ব্যবহার করুন।
নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে ও পরিবারকে সুস্থ্য রাখুন।
ওয়ার্ল্ড খরব২৪
www.Worldkhobor24.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com