শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ২.৮ লাখ শিক্ষার্থীর গ্রেডিং অনিশ্চয়তায়। জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার নিয়ম-কানুন-ডা.লরেন্স তীমু বৈরাগী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন নির্ধারণে নীতিমালা করতে কমিটি। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের পোস্ট দিতে পারবেন না কলেজের ছাত্র–শিক্ষকেরা-ওয়ার্ল্ড খবর২৪.। ভয়াল মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের পরীক্ষা হবে না।শিক্ষামন্ত্রী। নারী সম্পর্কে সচেতন হতে হবে সমস্ত জাতীকে-ওয়ার্ল্ড খবর জীববৈচিত্র রক্ষায় জাতিসংঘে ৪ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর।

‘আর কত নারী ধর্ষিত হলে আমাদের বিবেক জাগবে?’

ডেস্ক রিপোর্টস / ৮৫ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘আর কত নারী ধর্ষিত হলে আমাদের বিবেক জাগবে?’

ঘুম থেকে উঠে যখন টিভিটি খুলে খরবের দিকে দুটি চোখ পরে,তখনই খবর দেখতে পাওয়া যায় ধর্ষণের খবর। শুনতে কত কষ্ট লাগে।
তার কারণ যারা ধর্ষণ করছেন সেও কোন না কোন একজন মহিলার গর্ভে ধারণ করেছে,কিন্তু সে ভুলে গিয়ে পশুত্ব ধারণ করে সেই জঘণ্য কাজটি করে যা,তার মধ্যে পশুত্ব প্রকাশিত হয়।
তবে এখনই যে ধর্ষণ বেশি হচ্ছে তা কিন্তু নয়, আগেও ছিল, এখনও আছে,ভবিষতে যেন না থাকে
সে জন্য আজকের এই লেখা।
” আর কত নারী ধর্ষিত হলে আমাদের বিবেক জাগবে?”

বর্তমানে শুধু নারীদের ধর্ষণের খবর পাচ্ছি কিন্তু নারীর সাথে সাথে পুরুষেরও নির্যাতিত হচ্ছে।
অর্থ্যাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে এবং নিপীড়ন করছেও।

এখন যেটি বাড়তি হচ্ছে, সেটি হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কিছু কিছু ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তবে আমি আবারও বলছি যে, সব ঘটনা নয়ই এর কারণ তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব হইচই হয়, আবার কিছুদিন পর ওই ঘটনা আড়াল হয়ে যায়। প্রকৃত পক্ষে, সামগ্রিকভাবে ধর্ষণ বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে একটা সম্মিলিত প্রতিবাদ, সেটি হতে দেখি না। আর যে ঘটনাগুলো খুব বেশি আলোচিত হয়, সেগুলোর পেছনে একটা ইস্যু তৈরির চেষ্টাও বোধ হয় থাকে।
যেমন তনু হত্যার কথাই যদি বলি। তনুর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিলো একটি সেনানিবাসের ভিতরে, কাজেই তনুকে নিয়ে অনেক হইচই হলো। আবার খাদিজাকে নিয়েও খুব হইচই হলো, কারন খাদিজাকে কোপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রাজনীতির কর্মীর বিরুদ্ধে।
আরও খেয়াল করেছি, দেশে যে সব সম্প্রদায়ের মানুষ কম, সেসব সম্প্রদায়ের কোনো নারী ধর্ষিত হোক বা না হোক, ধর্ষণজনিত কোনও খবর উঠলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেঁপে ওঠে।
কিছুদিন আগেই মোল্লারহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীকে নিয়ে এমনই ঘটনা ঘটলো। খবর ছড়িয়ে পড়লো যে, সেই নারীকে নাকি কয়েকদিন ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করার পর পা কেটে দেওয়া হয়েছে। মুহুর্তেই একটি গোষ্ঠী এই ধর্ষণের ঘটনাকে ধর্মীয় কারণে ধর্ষণ হয়েছে বলার চেষ্টা করলো। যদিও পরে কোনও কোনও মিডিয়ায় একেবারেই উল্টো খবর প্রকাশিত হলো, যাতে পরকীয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
অথচ একই সময়ে নারায়নগঞ্জে একটি মেয়ে ধর্ষিত হয় এবং আভিযোগ পাওয়া যায় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বিরুদ্ধে, কিন্তু সেই ঘটনা নিয়ে নীরব সকলেই। দিনাজপুরেরই আরেকটি ঘটনার কথা বলি, দুর্গা পূজা চলাকালে পূজা মণ্ডপে দ্বায়িত্বে নিযোজিত দুজন নারী পুলিশকে ধর্ষণ করার খবর প্রকাশিত হয় একটি পত্রিকায়। ধর্ষণের অভিযোগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি নিয়েও নীরব ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
অর্থাৎ বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের কোনও প্রতিবাদ চাওয়া হয় না। যেসব প্রতিবাদ হয়, সেগুলো ইস্যু ভিত্তিক। সেনানিবাসে নারীর মৃতদেহ নিয়ে সমালোচনা হলে সেনাবাহিনীকে চাপে ফেলা যায়, রাজনৈতিক কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে কোপানোর অভিযোগ নিয়ে তুলকালাম বাধালে, এই দলটিকে প্যাচে ফেলা যায়, সংখ্যালঘু পরিবারের নারীদের ধর্ষণ নিয়ে কথা বললে, পাশের দেশ ভারতের দাদাদের সুবিধে হয় এবং তারা এদেশে এসে পত্রিকায় বলতে পারে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ভালো নেই। সবগুলো প্রতিবাদই ইস্যুভিত্তিক। সত্যিকার অর্থে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ যদি হতো, তাহলে প্রতিটি ধর্ষণ-নিপীড়নের ঘটনায় জেগে উঠতো ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেনীর মানুষ। প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনায় কেঁপে উঠতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু সেটি তো হয় না। যে সব নিপীড়নের ঘটনা ইস্যু তৈরির ডিব্বা, সেসব ডিব্বার মুখ উন্মোচন করা হয়। বাকি ধর্ষণের ডিব্বাগুলো অতলে তলিয়ে যাক, কারও মাথা ব্যথা নেই।

বাংলাদেশে প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়লেই ধর্ষণের খবর পাওয়া যায়। একটা-দুইটা ইস্যু নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে, একটা সম্মলিত প্রতিবাদ করতে না পারলে, এই অবস্থার উন্নতি হবে কিভাবে? আর বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা বা বিচার পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে নতুন করে কি বলবো? শাজনীন হত্যার বিচার পেতে সময় লেগে গেলো দীর্ঘ আঠারো বছর! নিপীড়করা তো জানে, তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে, তড়িৎ গতিতে কোনও বিচার হবে না। তবে, সে থামবে কেন?
অতএব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, লম্পট-সাধু সবাই আছে সবাই থাকে সুযোগের সন্ধানে। তা না হলে
কিভাবে রাজশাহীতে একজন ফাদার ধর্ষণ করে, কি ভাবে একজন ধর্মিয় লোক ধর্ষণ করে সে যে ধর্মেরই লোক হউক না কেন?

তবে আরেকটি সেক্টরকে উল্লেখ না করলে বাদ পরে যাবে, তা হলো এনজিওগুলো।এই এনজিওগুলো আসলে কি করছে বাংলাদেশে তা ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।
কথিত গবেষণা আর কর্মীদের বেতনের পেছনেই তো সব অনুদান শেষ। শিশুর মায়েদের জন্য দুই একটা সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন করার অর্থ কই তাদের? কই টেলিভিশনে তো এ ধরণের কোনো ক্যাম্পেইন দেখি না! কে সচেতন করবে মায়েদের? কে তাদের বোঝাবে এসব পাতানো বাবা-টাবা, মামা-খালুর কাছে তার কন্যা নিরাপদ নয়? কে শেখাবে শিশুদের ভালো স্পর্শ আর নোংরা স্পর্শ সম্পর্কে? আগে তাও বিটিভিতে কিছু সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন দেখা যেত, এখন তো শুনি গ্রামের মানুষও বিটিভি দেখে না।
একদিনেই তো বাংলাদেশটা কোনও আদর্শ দেশে পরিণত হবে না। এর জন্য প্রয়োজন একটা সম্মিলিত প্রতিবাদ। দেশে তো একটা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে। তাদের সাথে আমাদের সবাইকে সচেতনতার কাজ গুলো প্রচার করতে হবে।
কারণ এই সময়ে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, প্রত্যেক সেক্টরেই এই ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে নারীরা, বাদ পড়ছে না, ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকে।
অর্থাৎ রক্ষকই এখন ভক্ষক হয়।
আর এই ভক্ষককে ধ্বংষ করার জন্য প্রত্যেকটি মানুষকে তার ভিতরের লূকায়ীত মনুষত্বকে আরেকটি বার উজ্জিবিত করতে হবে।
প্রতিবাদের ঝড় তুলতে হবে।
সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এর কূফলতা প্রচার ও সহযোগীতা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Theme Created By ThemesDealer.Com